ভারতের ক্রীড়ানীতি: একটি ধারাবাহিক ইতিহাস (একাদশ পর্ব)

সুমিত গঙ্গোপাধ্যায়
খেলাধুলা আয়নার মত আমাদের সমাজকে দেখায় । শ্রেণী, লিঙ্গ, জাতি এবং ক্ষমতা সম্পর্ক তুলে ধরে। প্রকৃতপক্ষে মিডিয়া এবং দক্ষিণপন্থীরা খেলাধুলাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করলেও সবসময় এর মধ্যে ঘনিষ্ঠ মিথস্ক্রিয়া রয়েছে।

কিন্তু অলিম্পিকে যতটা ভালো হবার কথা তার ধারে কাছেও যেতে পারেনি। প্যারা অলিম্পিকে অস্বাভাবিক সাফল্য পেয়েছে ভারত। ফুটবলে পতন অভাবনীয় পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
খুব স্বাভাবিকভাবে বর্তমান ভারত সরকার চাইছে ক্রীড়া জগতে তাদের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করতে। স্বাধীন স্বশাসিত ক্রীড়া সংস্থাগুলিকে সরাসরি সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনলে আন্তর্জাতিক মহলে সমস্যা হতে পারে তাই ঘুর পথে কিন্তু খুব খোলাখুলি এই কাজটাই করতে চাইছে তারা।
আর তাই নতুন জাতীয় ক্রীড়া নীতি কায়েম করতে এনেছে আইন। এই আইন অনুযায়ী তৈরি হয়েছে 'ন্যাশনাল স্পোর্টস বোর্ড'। জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশনগুলিকে এই বোর্ডের স্বীকৃত হতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারের সাহায্য পাওয়ার জন্য। বিসিসিআই-কেও অনুরোধ করা হয়েছে এই বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য।
একই সঙ্গে রয়েছে একটি স্পোর্টস ট্রাইব্যুনাল তৈরির প্রস্তাব। দল বাছাই থেকে কমিটির নির্বাচন, যাবতীয় বিরোধের বিচার হবে এই ট্রাইব্যুনালে। ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতা একটি দেওয়ানি আদালতের সমান করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের রায়কে শুধুমাত্র সুপ্রিম কোর্টেই চ্যালেঞ্জ করা যাবে। বলা হচ্ছে, ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের দাবি জানাবে ভারত। তাই সমস্ত ক্রীড়া সংস্থাকে এক ছাতার তলায় আনতেই সরকারের এই পদক্ষেপ। এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, প্রতিটি ক্রীড়া সংস্থা 'তথ্য জানার অধিকার' আইনের অধীনে আসবে। প্রসঙ্গত, এখনও বিসিসিআই এই আইনের অধীনে নেই। এর একটি বড় কারণ হল, ক্রিকেট বোর্ড কেন্দ্রীয় সরকারের সাহায্যের উপর নির্ভরশীল নয়। '
কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রক চাইছে বিসিসিআই এই বোর্ডের অধীনে আসুক। আগামী ২০২৮ এ ২০৩২-এর অলিম্পিকে ক্রিকেট থাকবে। ফলে ক্রিকেট বোর্ডকে পাখির চোখ করেছে তারা। ভারতের সবচেয়ে ধনী এই বোর্ডকে যেভাবেই হোক নিয়ন্ত্রণে আনতে চায় তারা।
জাতীয় ক্রীড়া বোর্ডে (এনএসবি) একজন চেয়ারম্যান সহ অন্যান্য সদস্যরা থাকবেন। এঁদের নিয়োগ করবে কেন্দ্রীয় সরকার। নিয়োগের জন্য যোগ্যতা হল, 'ক্ষমতা, অখণ্ডতা ও স্থায়ীত্ব'। বোর্ড তৈরির ক্ষেত্রে দেখা হবে সদস্যদের 'জন প্রশাসন, ক্রীড়া প্রশাসন ও ক্রীড়া আইনে বিশেষ জ্ঞান বা কার্যকরি অভিজ্ঞতা রয়েছে কিনা।' নিয়োগ হবে একটি সার্চ কমিটির অনুরোধের ভিত্তিতে। দাবি করা হয়েছে, খসড়া বিল চূড়ান্ত হবে এই বিষয়ের অংশীদার ও জনগণের পরামর্শের ভিত্তিতে।
বোর্ডের নির্বাচকমণ্ডলীর মধ্যে থাকবেন একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের সচিব বা ক্রীড়া সচিব। তিনি হবেন চেয়ারপার্সন। থাকবেন সাইয়ের ডিরেক্টর জেনারেল, দু'জন ক্রীড়া প্রশাসক যারা কোনও জাতীয় ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক বা কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। এর সঙ্গে একজন ক্রীড়াব্যক্তিত্ব থাকবেন, যিনি হয় অর্জুন বা খেলরত্ন পেয়েছেন বা দ্রোণাচার্য হয়েছেন।
জাতীয় ক্রীড়া নির্বাচন প্যানেলে একজন নির্বাচন কমিশনের প্রাক্তন সদস্য বা রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সদস্য কিংবা রাজ্যের প্রধান নির্বাচনী অফিসার বা ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার থাকবেন। তাঁরা, 'অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন হচ্ছে কিনা তার উপর নজর রাখবেন নির্বাচনী অফিসার হিসেবে'।
এরই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রক। আন্তর্জাতিক ডোপবিরোধী সংস্থার দেওয়া পরামর্শ অনুসারে এই সংশোধনী বিল আসছে। কারণ এর আগে ২০২২ সালে এই বিল এলেও ওয়াডা (আন্তর্জাতিক ডোপবিরোধী সংস্থা) সরকারি নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ এনে এই বিলে আপত্তি জানায়। কারণ বিলে নাডা (জাতীয় ডোপবিরোধী সংস্থা)-র উপর নজরদারির একটি বোর্ড তৈরি করা হয়েছিল।
নিঃসন্দেহে এই আইন ভারতের ক্রীড়া জগতের উপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ কায়েম করবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় আমলা বা সরকারের অনুমোদিত ব্যক্তিরা হয়ে উঠবেন সর্বেসর্বা। খর্ব হবে সংস্থাগুলির স্বাধিকার। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলির নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় ক্রীড়া সংস্থায় কোনওরকম সরকারি হস্তক্ষেপ চলবে না।
এই নীতি আংশিকভাবে কার্যকর হলো ১ জানুয়ারি থেকে। কেন্দ্রীয় সরকার বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এই নীতি চালু করেছে।
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিলের ১ থেকে ৩ ধারা, ৪ নম্বর ধারার (১)ও (২) উপধারা, ৫ নম্বর ধারার (১) ও (২) নম্বর উপধারা, ৮ নম্বর ধারার (৫) উপধারা, ১১ নম্বর ধারা (১) নম্বর উপধারা, ১৪ ও ১৫ নম্বর ধারা, ১৭ নম্বর ধারার (১) থেকে (৭) নম্বর উপধারা, ৩০ ও ৩১ নম্বর ধারা এবং ৩৩ থেকে ৩৮ নম্বর ধারা কার্যকর করা হবে।
যে ধারাগুলি কার্যকর হয়েছে, সেগুলি মূলত জাতীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলির গঠন ও শাসন কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল অলিম্পিক কমিটি, ন্যাশনাল প্যারালিম্পিক কমিটি, জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশন এবং আঞ্চলিক ক্রীড়া ফেডারেশনগুলি। এই আইনের অধীনে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর প্রতিটি সংস্থার কার্যনির্বাহী কমিটিতে সর্বাধিক ১৫ জন সদস্য থাকতে পারবেন। সেখানে অন্তত দু'জন 'স্পোর্টসপার্সন অব মেরিট' অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক।
তিন সদস্যের প্রস্তাবিত এনএসবি কেন্দ্রীয় সরকারের মনোনীত সভাপতি ও সদস্যদের নিয়ে গঠিত হবে। শুধু ফেডারেশনগুলিকে স্বীকৃতি দেওয়াই নয়, তাদের আর্থিক কার্যকলাপ তদারক এবং প্রয়োজনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতাও পাবে। সরকারি অনুদান পেতে হলে এনএসবি'র স্বীকৃতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এনএসবি সদস্যদের বয়সসীমা ৬৫ বছর নির্ধারিত হয়েছে। এনএসটি'র সদস্যদের মেয়াদ চার বছর ও বয়সসীমা ৬৭ বছর রাখা হয়েছে।
আইনের বাস্তবায়ন বিধিতে 'স্পোর্টসপার্সন অব মেরিট' হওয়ার জন্য স্তরভিত্তিক যোগ্যতার কথা বলা হয়েছে। অলিম্পিকে অংশগ্রহণকারী ক্রীড়াবিদরা সর্বোচ্চ স্তরে থাকবেন। পাশাপাশি জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে পদকজয়ীরাও প্রশাসনে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। ধাপে ধাপে আইন কার্যকর করে স্বচ্ছ, জবাবদিহি মূলক ও পেশাদার ক্রীড়া প্রশাসন গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে ওয়াকিবহাল মহলে এই নীতি নিয়ে প্রচুর প্রশ্ন রয়েছে। যেমন বিসিসিআই আদৌ এই এনএসবি-তে যুক্ত হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিসিসিআই আর্থিক দিক থেকে সরকারের উপর নির্ভরশীল নয়। আবার কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার ক্রিকেট বোর্ডের মতো শক্তিশালী ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানকে বাগে আনতে একপ্রকার মরিয়া। এর আগে ১৯৯৮ সালে তৎকালীন কেন্দ্রের সরকারও চেষ্টা করেছিল। তবে সফল হয়নি।
এই বিল অনুযায়ী বিসিসিআই-কে এথিক্স কমিশন গঠন করতে হবে, ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা চালু করতে হবে। যদি কখনও সরকারি সুবিধা নেয় তবে শাসন ও স্বচ্ছতার নিয়ম মানতে হবে। বিলের প্রথম খসড়ায় বলা ছিল সব স্বীকৃত ক্রীড়া সংস্থাই আরটিআই'র আওতায় পড়বে। পরে সেই ধারা বদলে বলা হয় যারা সরাসরি সরকারি আর্থিক সাহায্য পায়, তারাই আরটিআই'র অধীনে আসবে। বিসিসিআই'র দাবি, তারা সরাসরি সরকার থেকে টাকা নেয় না। তাই আরটিআই লাগু হবে না।
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড নিজেকে একটি স্বশাসিত সংস্থা বলে দাবি করে। এটি তামিলনাড়ু সোসাইটি আইনে নিবন্ধিত একটি দাতব্য সংস্থা। সরাসরি সুযোগ না নিলেও তারা পরোক্ষভাবে সরকারি সুযোগ সুবিধা পায়। বহু বছর ধরে কর ছাড় পেয়ে আসছে। নামমাত্র দামে জমি ও স্টেডিয়াম লিজ পায়। ভারতের ক্রিকেটে কার্যত একচেটিয়া অধিকার তাদের। ঢালাও জাতীয় প্রতীক ব্যবহার করে। সুপ্রিম কোর্ট ২০১৫ সালে বলেছিল, বিসিসিআই কার্যত সরকারি কাজের মতো জনস্বার্থমূলক কাজ করে। জাস্টিস লোধা কমিটি বোর্ডকে আরটিআই'র আওতায় আনার সুপারিশ করেছিলেন। ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিকে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। সেক্ষেত্রে এনএসবি-তে বোর্ডের থাকা একটি বড় প্রশ্ন।

আজকের পুঁজিবাদে খেলাধুলার ভূমিকা বিপরীতমুখী। গড়পড়তা কর্মজীবী মানুষ সাধারণত রাজনীতির চেয়ে খেলাধুলায় বেশি আগ্রহী। তারা যে খেলাগুলি অনুসরণ করে তার বেশিরভাগ খেলোয়াড়দের নাম তারা জানে।
খেলাধুলা আয়নার মত আমাদের সমাজকে দেখায় । শ্রেণী, লিঙ্গ, জাতি এবং ক্ষমতা সম্পর্ক তুলে ধরে। প্রকৃতপক্ষে মিডিয়া এবং দক্ষিণপন্থীরা খেলাধুলাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করলেও সবসময় এর মধ্যে ঘনিষ্ঠ মিথস্ক্রিয়া রয়েছে।
পুঁজিবাদ নিরলসভাবে পণ্য উৎপাদন এবং বাজারকে প্রায় সব ধরনের মানবিক ক্রিয়াকলাপে নিয়ে এসেছে। খেলাধুলা আর শুধু ব্যক্তিগত বা স্থানীয় অপেশাদার কার্যকলাপ নয়। অর্থনীতির একটি বিশাল অংশ। পুঁজিবাদী মুনাফা শিল্প উৎপাদনের পরিবর্তে অর্থনীতির পরিষেবা/অবসর খাতে ক্রমবর্ধমানভাবে উত্পন্ন হয়। আগের চেয়ে বেশি মানুষ সরাসরি খেলাধুলা-সম্পর্কিত ব্যবসায় নিযুক্ত। খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত মতাদর্শ এবং কার্যকলাপ প্রায় ধর্মের ভূমিকাকে প্রতিস্থাপিত করেছে। ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা বা উন্নতির ইতিবাচক ধারণা, দলগত কাজ, অনুকরণের জন্য রোল মডেল, অত্যধিক বীর-উপাসনা, এবং যে কোনও মূল্যে জয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের দুই অধ্যাপক জন এফ গ্যালিহার ও রিচার্ড এম হেসলার প্রায় ৪৫ বছর আগে এক প্রবন্ধে দেখিয়েছিলেন যেকোন রকম খেলাধুলায় চরম প্রতিযোগিতা একটা বড় অংশের মানুষকে খেলাধুলায় সক্রিয় হওয়ায় বাধা দেয়। অত্যাধিক প্রতিযোগিতামূলক খেলাগুলি বেশিরভাগ সময় খেলোয়াড়রা উপভোগ করতে পারেন না। আগে সাধারণ মানুষ খেলা দেখে খেলোয়াড়দের দেখে তাঁর মত খেলার চেষ্টা করত, এখন ফ্যান্টাসি গেম খেলে আর সমাজ মাধ্যমে অন্য কোনও খেলোয়াড়কে ব্যঙ্গ করে।
একসময় পেশাদার ফুটবলক্লাবগুলি ছিল স্থানীয় মানুষের সমর্থন পুষ্ট। সেখানে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রনা ছিল। তখন ফুটবলারদের আয় ছিল কম। বিগত কয়েক দশক ধরে ফুটবল চলে বিশ্বব্যাপী কর্পোরেট পুঁজির মাধ্যমে। বড় খেলোয়াড়দের আয় অস্বাভাবিক বেশি। আগে টেলিভিশন শুরু থাকলেও কভারেজ কম ছিল। এখন বড় চ্যানেল গুলি বিশাল বিনিয়োগ করে ক্রীড়াক্ষেত্রে। প্রিমিয়ার লিগের টিভি স্বত্ব বিলিয়ন বিলিয়নে বিক্রি হয়। স্পনসরশিপ এবং বিজ্ঞাপন টিভি কভারেজের মত আরও বেশি অর্থ আনে । ফলস্বরূপ, বড় খেলোয়াড়রা এখন সেলিব্রিটি। স্থানীয় মানুষ ক্লাব থেকে ক্রমশঃ বিচ্ছিন্ন। আগে খেলোয়াড়রা আশেপাশের জনসম্প্রদায় থেকেই আসত কিন্তু এখন বহুক্ষেত্রে স্থানীয় জনসম্প্রদায়ের প্রতিনিধি থাকেই না।
বর্তমানে ফ্র্যাঞ্চাইজির যুগে টিকিটের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে, খেলাটি শ্রমিক-শ্রেণির নাগালের বাইরে চলে গেছে ও যাচ্ছে। সম্প্রতি পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে এই ফ্র্যাঞ্চাইজির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে ওঠার অবস্থা তৈরী হলেও বহু ক্ষেত্রে আন্দোলন গুটিয়ে যাচ্ছে। এক শ্রেণির সমর্থকরা তবুও এই কর্পোরেট সংস্কৃতির বিরোধিতা করেন। যদিও বিকল্প রাস্তা দেখাতে তাঁরা অক্ষম।
সাম্প্রতিক সময়ের আন্তর্জাতিক পুঁজি যে কোনও খেলাধুলায় প্রতিযোগিতা ও শ্রেষ্ঠত্ব, দুটি বিষয়কেই পণ্য বলে মনে করে, এমনকি এর সঙ্গে যুক্ত থাকা ‘নৈতিক’ ধারণাকেও পণ্য বলে ধরে। যেহেতু আন্তর্জাতিক পুঁজিবাদ এবং ক্রীড়া জগতের বিশাল বাজার মোটামুটি একই কর্পোরেটদের নিয়ন্ত্রণে তাই যেকোনো বড় খেলার (ফুটবল, ক্রিকেট, অলিম্পিক) আন্তর্জাতিক পুঁজিবাদের স্বার্থকে খুব ভালভাবে রক্ষা করে করে।
আজকের ক্রীড়া জগত তাই একদিকে কেন্দ্রীয় কর্তৃত্ব কায়েম করা দক্ষিণপন্থী এবং উচ্চ কর্পোরেটিয় করনের লীলা ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষ ক্রীড়া জগতকে যেভাবে দেখে তার থেকে পৃথক একটি দৃষ্টিভঙ্গি তাদেরকে তৈরি করা হয়েছে। এরা জনগণের ব্যাপক অন্তর্ভুক্তিকরণ চায় না। জনগণকে শুধুমাত্র দর্শক এবং ভোক্তা হিসেবে রেখে দেওয়াই এদের কাজ। বিকল্প পথের সন্ধান করাই এখন একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রকৃত শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষদের।
প্রথম পর্ব চতুর্থ পর্ব সপ্তম পর্ব
দ্বিতীয় পর্ব পঞ্চম পর্ব অষ্টম পর্ব
তৃতীয় পর্ব ষষ্ঠ পর্ব নবম পর্ব
দশম পর্ব

প্রকাশ: ১২-ফেব্রুয়ারি-২০২৬
শেষ এডিট:: 12-Feb-26 02:35 | by 3
Permalink: https://cpimwestbengal.org/indias-sports-policy-a-continuous-history-x - exists in postID 32107
Categories: Fact & Figures
Tags: india sports, liberalism and indian sports, sports and politics, sports in capitalism
বিভাগ / Categories
- Booklets - পুস্তিকা (4)
- Campaigns & Struggle - প্রচার ও আন্দোলন (165)
- Corporation Election - পৌরসভা নির্বাচন (6)
- Current Affairs - সাম্প্রতিক ঘটনাবলী (150)
- External Links - প্রাসঙ্গিক লিংক (4)
- Fact & Figures - তথ্য ও পরিসংখ্যান (81)
- Highlight - হাইলাইট (97)
- International - আন্তর্জাতিক (3)
- Party Documents - পার্টি পুস্তিকা (3)
- People-State - জনগণ-রাজ্য (6)
- Press Release - প্রেস বিজ্ঞপ্তি (155)
- Programme - কার্যক্রম (1)
- Truth Beneath - তথ্য (18)
- Uncategorized - অশ্রেণীভুক্ত (339)
সাম্প্রতিক পোস্ট / Latest Posts
সোহরাওয়ার্দী এভিনিউ-এর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত ইতিহাস বিকৃতির বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত
- সিপিআই(এম) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি
আমরা করব জয় নিশ্চয়
- সূর্যকান্ত মিশ্র
বিজেপি’র ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ — সম্পূর্ণতই ভুল এবং অনৈতিক
- সুজন চক্রবর্তী
কাদা-মাটির স্বপ্ন ভাঙছে ডলারের বাজারে
- শমীক লাহিড়ী





